- Get link
- X
- Other Apps
জনতার ভালোবাসার উত্থান-পতন: তিনটি নাম, তিনটি অধ্যায়
শেখ মুজিব স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। সাত কোটি বাঙ্গালীর নয়নমনি ছিলেন। তাঁর কথায় মানুষ চোখ বন্ধ করে আগুনে ঝাঁপ দিতে দ্বিধা করতো না। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। তখন শেখ মুজিব নাই। দেশ স্বাধীন হল। শেখ মুজিব রেডিমেইড দেশে ফিরে এলেন। যুদ্ধের সময় তিনি দেশে ছিলেন না। তবু তাঁর প্রতি কারো কোন অভিযোগ নাই। বুকে জড়িয়ে নিলো তাঁকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের গরীব সাত কোটি মানুষ।
কিন্তু তিনি কথা রাখেন নাই। যে বাঙ্গালী জাতির মুক্তির জন্য তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করালেন, সেই জাতিকে তিনি কারারুদ্ধ করে ফেললেন এক দলীয় শাসনে। নিজের ঘরে নিজের দেশে স্বাধীন দেশে নিজের জাতের মুজিবের দু:শাসনে বাঙ্গালীর নাভিশ্বাস অবস্থা।
সুবিধাভোগী দলীয় চেলারা ছাড়া আপামর মানুষ মুজিবের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লো। তাঁর জনপ্রিয়তা তখন শূন্যের কোঠায়।
সেই মুজিব যখন পঁচাত্তুরে খুন হল, দেশের আপামর মানুষ যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। আনন্দে রাস্তায় নেমে নৃত্য করেছে বাঙ্গালী। কেউ কাঁদে নাই। কেউ জানাজায় যায় নাই।
ভাবা যায়, একাত্তুরের আগে যে ব্যাক্তির জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী, একাত্তুরের পরেই সেটা চোখের নিমিষে হারায়ে গেল।সবই কর্ম ফল।
জিয়া কোন রাজনীতিক ছিল না। ছিল।সাধারন একজন মেজর। তাও পাকিস্তানে বড় হওয়া। বাংলা লিখতে পড়তেও জানতো না। অথচ সেই মেজর কিনা সবার আগে রিভোল্ট করে বসলো নিজের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। একদম দ্বিধা করে নাই।
সেই মেজর একদিন দেশের প্রধান হলেন। জাতিকে স্বপ্ন দেখালেন। নিজে সৎ সাধারন জীবন যাপন করে দেশবাসীকে সৎ হতে উৎসাহিত করলেন। বেঁচে থাকলে এই মানুষ নির্ঘাত দেশকে বদলে দিতে পারতেন তাঁর সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়ে।
জিয়াও খুন হলেন তাঁরই খাকী পোষাকের সহোদর ভাই বেরাদারদের হাতে।
দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে নাই জিয়ার অকাল প্রয়ান। কেঁদেছে। পুরো জাতি জিয়ার জন্য কেঁদেছে।
পয়সা দিয়ে পান্ড কেনা যায়। খুনি কেনা যায়। কিন্তু মানুষের মন পেতে হলে মানুষের মনে ঢুকে যেতে হয়। জিয়া সেটা পেরেছিলেন।
জিয়া মুজিবের মত জনপ্রিয় হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতাবাজ ছিল না। কিন্তু তাঁর কর্মকান্ড, আচরনে দেশবাসী বুঝে গিয়েছিল, জিয়া দেশ ও জাতির সাথে বেঈমানী করবে না মুজিবের মত। তাই জিয়া গন মানুষের নেতায় পরিনত হতে পেরেছে।
জিয়া তাই আজো সাধারন মানুষের হৃদয়ে আসন গেঁড়ে আছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সৈনিক ওসমান হাদী একজন অল্পবয়েসী কিন্তু ভিশনারী মানুষ ছিলেন। তার ভিতর দেশকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল।
হাদী স্বপ্ন দেখতো। স্বপ্ন দেখাতো। পঁচা গলাদের চক্ষুশূল না হয়ে বেঁচে থাকলে হাদী সত্যি একদিন অনেক বড় নেতা হয়ে দেশের দায়িত্ব নিতো কাঁধে। হাদীর ভিতর সেইরকম আগুনের ফুল্কি ছিল।
হাদী চলে গেছে। তবে সে যা দেখিয়ে গেছে, শিখিয়ে গেছে অল্প কদিনে, দেশের তরুন প্রজন্ম তার পথ অনুসরন করলে দেশ আর বিপদগ্রস্থ হবে না। হাদী বেঁচে থাকবে অগনিত মানুষের হৃদয়ে।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment